অনুসন্ধান

থিম নির্বাচন:

অ্যাকাউন্টে প্রবেশ

ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করতে লগ ইন করুন।

লগ ইন

জাতীয় গ্রিডে চরম সংকট: ঢাকাসহ সারাদেশে ৪ দিন তীব্র গ্যাস অচলাবস্থা


কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অজুহাতে ৪ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে টানা চার দিন গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে একলাফে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসায় বাসাবাড়ির চুলার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে দেখা দেবে নজিরবিহীন ভোগান্তি। প্রতিবছর এই একই ধরনের কারিগরি সংস্কারের নামে সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়িক খাতকে যেভাবে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলা হচ্ছে, তা রাষ্ট্রীয় পরিচালনা ব্যবস্থার জবাবদিহিতা ও সক্ষমতা নিয়ে গভীর ভাবনার জন্ম দেয়। দেশের অর্থনৈতিক চাকা স্থবির হওয়া এবং মানুষের দৈনন্দিন আহার সংকট এড়াতে সমন্বিত নীতিমালার কঠোর বাস্তবায়ন এখন অপরিহার্য দাবি।

পর্যবেক্ষণওয়ালা বিশেষ প্রতিবেদন
ঢাকা, ৩ নভেম্বর ২০২৬ — মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে আজ (৩ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে আগামী শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা চার দিন রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে তীব্র গ্যাস সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন কোটি কোটি নাগরিক। পেট্রোবাংলার জনসংযোগ বিভাগ থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তায় এই মারাত্মক সরবরা ঘাটতির কথা স্বীকার করা হয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা সংকুচিত হয়ে আসায় একদিকে যেখানে বাসাবাড়িতে সাধারণ মানুষের রন্ধনশৈলী ব্যাহত হওয়ার মুখে, অন্যদিকে তৈরি পোশাক ও উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানায় উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়ার অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে।

পেট্রোবাংলা প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানা গেছে, টার্মিনালের রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার ফলে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে মাত্র ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে এসে ঠেকবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের আওতায় নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট ও নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা নিশ্চিত করার মৌলিক দায়িত্ব থাকলেও, নিয়মিত কারিগরি ত্রুটি ও পরিকল্পনাহীন মেরামতের দোহাই দিয়ে জাতীয় অর্থনীতিকে বারংবার ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থার এই এক-তৃতীয়াংশ ধস নগরবাসীকে চরম দৈনন্দিন সংকটে নিপতিত করেছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা কেবল গৃহস্থালি চুলায় সীমাবদ্ধ নেই, শিল্পাঞ্চল বিশেষ করে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের স্পিনিং ও টেক্সটাইল মিলগুলোতে গ্যাসের চাপ শূন্যের কোঠায় নেমে আসার ভয়ে মূলধনী ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিগত বছরগুলোর ডিসেম্বরেও একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অজুহাতে নাগরিকদের ভোগান্তিতে ফেলা হলেও স্থায়ী কোনো বিকল্প বা বিকল্প ব্যাকআপ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দৃশ্যমান ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে রান্নাবান্নার প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুপস্থিতি একদিকে সাধারণ মানুষের হোটেল-রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভরতা বাড়াবে, অন্যদিকে পকেটের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলএনজি আমদানিনির্ভর জাতীয় গ্রিডের অবকাঠামোগত সংস্কার আবশ্যক হলেও তা পরিকল্পিতভাবে শিল্প ও আবাসিক খাতের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে সম্পন্ন করা যেত। চার দিনের এই গ্যাস বিপর্যয় যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে জাতীয় অর্থনীতিতে কোটি কোটি টাকার লোকসানের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো এবং কৌশলগত আমদানির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরির কোনো বিকল্প নেই, যাতে সাধারণ জনগণের জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ এভাবে থমকে না যায়।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য: "সকাল থেকে চুলা জ্বলছে না, বাচ্চাদের টিফিন বা দুপুরের খাবার রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না; প্রতি বছরই রক্ষণাবেক্ষণের নামে আমাদের এভাবে বিপদে ফেলা হয় অথচ মাস শেষে বিল ঠিকই দিতে হয়।" — রাজধানীর এক সাধারণ গৃহিণী।

বিশেষজ্ঞের বক্তব্য: "একটি মাত্র এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হলেই যদি জাতীয় গ্রিডের এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ ধসে পড়ে, তবে তা জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার চরম দুর্বলতা প্রকাশ করে। ব্যাকআপ ব্যবস্থা ও বিকল্প উৎস দ্রুত সক্রিয় না করলে শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।" — জ্বালানি ও অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ।

অফিশিয়াল বক্তব্য: "সামিট এলএনজি টার্মিনালের জরুরি কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ৪ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সরবরাহ সাময়িকভাবে কম থাকবে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য আমরা সাধারণ গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।" — তারিকুল ইসলাম খান, উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ), পেট্রোবাংলা।

আগের খবর
অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেপ্তার
পরের খবর
রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ বিশাল লাফ, স্বস্তিতে দেশের রিজার্ভ ও অর্থনীতি

এই বিষয়ে আরও পড়ুন:

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন স্লট

মন্তব্য (0)

এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

মন্তব্য করুন (নাম ছাড়াও করতে পারবেন)

ফেসবুক দিয়ে মন্তব্য

আরও খবর — স্ক্রল করতেই চলতে থাকুন